রুশ ইউক্রেন যুদ্ধ

 




বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে, যেটা আরও বেশি বিস্তার লাভ করবে বলে মনে হচ্ছে। এই যুদ্ধের উত্তাপ সবার গায়ে কম-বেশি এসে লাগবে সেটা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে।

ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম কৃষি পণ্য সরবরাহকারী দেশ এই ইউক্রেন। তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ শতাংশ গম রপ্তানি করে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। বাংলাদেশও প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ টন গম আমদানি করে যার মধ্যে ৩৫ লাখ টন আমদানি করা হয় ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে।
অন্যদিকে রাশিয়ার তেল-গ্যাসের উপর ইউরোপের অনেক দেশ নির্ভরশীল। তাই রাশিয়া থেকে তেল-গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। এসব ব্যবস্থা কেবল রাশিয়ার অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলবে তা নয়, এর প্রতিক্রিয়া সারা বিশ্বের অর্থনীতির উপর পড়বে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপদ আসন্ন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইতিমধ্যেই এই মর্মে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
পশ্চিমা দেশের দেয়া নিষেধাজ্ঞা দ্রুততার সাথে রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। কারন রাশিয়ার মোট জিডিপির ২৬% নির্ভর করে রপ্তানি বানিজ্যের উপর। গত কিছুদিনে রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সেদেশের সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তাদের মুদ্রার দাম এতটাই কমে গেছে যে সেই মুদ্রা কতটা কাজে দেবে কেউ জানে না।
পুতিনের এই যুদ্ধ যতো দীর্ঘায়িত হবে বিশ্বের অর্থনীতি সেই হারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারন ২০২২ সালটা শুরু হয়েছে কোভিড পরবর্তী কঠিন পরিস্থিতি দিয়ে। বিশ্ব অর্থনীতি যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলো তখনই পুতিন এই যুদ্ধ বাধিয়ে দিছে। পুতিনের ইউক্রেনে এই আগ্রাসন বিশ্বের অনেক দেশকে বহুদূরে নিয়ে নিবে। কারন রাশিয়া কঠিন অর্থনৈতিক অবরোধে জড়িয়ে গেছে, ফলে তেল এবং গ্যাসের দাম চড়ে যাবে।
বিশ্ব অর্থনীতি যত বেশি সমস্যা মোকাবিলা করবে, রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য হয়ত ততো চাপ বাড়বে। কিন্তু এসব ব্যবস্থা পুতিনকে খুব বেশি আপসমুখী করবে বলে মনে হয় না, বরং এগুলো তাকে আরও আগ্রাসী করে তুলবে বলেই মনে হয়। ফলে আগামী দিনগুলোয় বিপদের মাত্রা বাড়বে ছাড়া কমবে বলে মনে হচ্ছে না।

SHARE THIS

Author:

Previous Post
Next Post