প্রায় ২০০ বছর আগের কথা। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই তার জীবদ্দশায় প্রতি বছর চৈত্রের দৌলপূর্ণিমা রাতে বাউলদের নিয়ে সাধুসঙ্গ উৎসব করতেন। খাটি করে গড়ে তুলতে নানান আনুষ্ঠানিকতায় শিষ্যদের জ্ঞান দিতেন মহাগুরু লালন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার মৃত্যুর পরও প্রথমে তার অনুসারীরা পরে লালন একাডেমি এ উৎসব চালিয়ে আসছে। সেই রীতিতে শুরু হওয়া এবারের উৎসব চলবে ১৭ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত।লালনের বাণী প্রচারকারী কহিনুর আক্তার গোলাপী বলেন, বহু গুণী মানুষ রয়েছে। তবে বিশ্বে লালন একটু আলাদা। কারণ, তার এই ভবের হাটে সব ধর্ম, বর্ণ, জাতির মানুষ আসে। এক সারিতে বসে খায়। এখানে কোনো বিবেদ থাকতে পারে না। দুই বছর এই উৎসব না হওয়ায় লালন দর্শন প্রচারকারীরা একটু অসুবিধায় পড়েছিল। এখন এই উৎসব থেকে লালনের অহিংসবাণী বহু মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়বে।মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের আনুষ্ঠানিকভাবে লালন উৎসবের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর বন্ধ ছিল লালন উৎসব। তাই ভক্তদের মধ্যে এবারের উৎসব নিয়ে একটু বেশিই উচ্ছ্বাস রয়েছে। অজানাকে জানা, আত্মার তৃপ্তি ও নিজেদেরকে খাটি করতে কয়েক দিন আগেই আখড়াবাড়িতে জড়ো হয়েছেন তারা।