তরুণ মজুমদার আমাকে প্রথম ছবি সই করিয়েছিলেন’, বলেছিলেন অভিষেক

 


পরিচালক নন্দন দাশগুপ্তর বাড়ির সামনে দিয়ে যেতাম আমাদের ফ্যাক্টরিতে। বিকেলে ক্লাবে ফুটবল খেলার সময়ও ওঁর বাড়ির সামনে দিয়েই যেতাম। আমাকে অনেকদিন পর্যন্ত ফলো করেছিলেন তিনি। আমাকে ওঁর পছন্দ হয়েছিল। ছবিতে একটি ইয়ং পেয়ারের দরকার ছিল। একদিন সন্ধ্যাবেলায় ফুটবল খেলে হাফ-প্যান্ট পরে খালি গায়ে মাঠের মধ্যে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আমাকে এসে বললেন, ‘শোনো এদিকে এসো মিঠু, আমি একটা সিনেমা করছি। তাতে একটা হিরোর রোল আছে, তুমি করবে?’ আমি অবাক হয়ে গিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি হিরো.. কী বলছেন.. ভেবেচিন্তে বলুন’। বলেছিলেন, ‘না, আমি তোমাকেই চাই…’। বলেছিলাম, ‘দাঁড়ান, বাড়িতে কথা বলে আসি।’ বাবাকে বলার সাহস পাইনি। মাকে বলেছিলাম। মা রাজি। ছেলে হিরো হবে। কোন মা না চান। মা বললেন, ‘যা না ট্রাই কর না, দ্যাখ!’ সেই আমার জার্নি শুরু হল।তপন থিয়েটারে সত্য জেঠুর সঙ্গে অভিনয় করেছিলাম বলে আমার সঙ্গে খুব ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তাঁকেই একদিন বলে বসলাম কাজ পাচ্ছি না। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘তুই এক কাজ কর, তপন থিয়েটারে ‘নাগপাশ’ নাটকের দীপকের সাবস্টিটিউট হয়ে যা।’ ৬ মাসের মধ্যে একদিনও সুযোগ এল না। সেই সময় তরুণ মজুমদার ‘পথভোলা’ ছবিটা তৈরি করবেন বলে ভাবছেন। পাঁচজন ছেলে দরকার। তিনজনের বাছাই হয়ে গিয়েছে। আরও দু’জন নতুন ছেলে নেবেন। সত্য জেঠু বললেন, আমার কাছে একটি নতুন ছেলে আছে। আপনি দেখতে পারেন।

…গেলাম পরের দিন। ভিতরে ঢুকলাম। দেখি তরুণ জেঠু বসে আছেন। দেবশ্রী কায় কাঁধ টিপে দিচ্ছেন। তাপল পাল সামনে বসে আছেন। সেই সময় আমার কী অবস্থা। ‘ভালবাসা ভালবাসা’ রিলিজ় করেছিল তখন। আমি নিজেই ৭ থেকে ৮ বার দেখেছিলাম। আমার হাঁটু কাঁপতে শুরু করে। আমাকে দেখে তরুণ জেঠু বললেন, ‘সব ভাল আছে। কিন্তু আমার একটু রাখটাফ চেহারা চাই’। তখন আমার খুব ভাল শারীরিক গঠন। বললেন, ‘চেহারা ভাল লেগেছে। মুখটা একদম চকোলেট হিরোর মতো। আপনি এক কাজ করুন, এক মাস চুল দাড়ি না কেটে আমার সঙ্গে দেখা করুন’।এদিকে একমাস হতে চলল। আমার মাথা ভর্তি বড়-বড় চুল। মুখ ভর্তি বড়-বড় দাড়ি। আমি ভাবলাম গেছে। আমার আর হবে না।

একদিন এনটিওয়ানের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি। পাশ দিয়ে একটা সাদা অ্যাম্বাস্যাডার গাড়ি এগিয়ে গিয়েই পিছিয়ে এল। গাড়ির ভিতর থেকে তরুণ জেঠু বললেন, ‘কী হল, আপনি আমার সঙ্গে দেখা করছেন না কেন?’ আমি বললাম, ‘একমাস হয়নি তো। দু’-একদিন বাকি আছে।’ বললেন, ‘এক্ষুনি চলে আসুন।’

আমি গেলাম। সেদিনই সংলাপ পড়ালেন। সই করালেন। কাজটা আমি পেয়ে গেলাম। সেই আমার জার্নি শুরু হল। এটা ঠিক, ‘পথভোলা’র পর আর আমাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।”৮০-৯০ দশকের একটা সময়ে সুপুরুষ চেহারার অধিকারী পার্শ হিরো হিসাবে প্রচুর হিট সিনেমা করা অভিষেক চট্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়ানে মর্মাহত.....

তরুণ মজুমদারের 'পথভোলা' (১৯৮৬) তার সিনেমা জগতে প্রবেশ .... ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন....দূরদর্শনে একটা 'জাল' বলে ধারাবাহিক হয়েছিল , চিরঞ্জিত ছিলেন , অভিষেক চ্যাটার্জী নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন
পথভোলা (১৯৮৬)
ওরা চারজন (১৯৮৮)
মর্যাদা (১৯৮৯)
তুফান (১৯৮৯)
মা (১৯৯২)
ইন্দ্রজিৎ (১৯৯২)
বাদশাহ (১৯৯২)
মায়ের আশীর্বাদ (১৯৯৩)
শক্তি (১৯৯৩)
রাজার রাজা (১৯৯৪)
ফিরিয়ে দেওয়া (১৯৯৪)


গজমুক্ত (১৯৯৪)
মায়া মমতা (১৯৯৪)
গীত সংগীত (১৯৯৫)
সংঘর্ষ (১৯৯৫)
মেজো বৌ (১৯৯৫)
সুজন সখী (১৯৯৫)
লাঠি (১৯৯৬)
ভাই আমার ভাই (১৯৯৬)
সিঁথির সিঁদুর (১৯৯৬)
পবিত্র পাপী (১৯৯৭)
নিষ্পাপ আসামি (১৯৯৭)
বকুল প্রিয়া (১৯৯৭)
মায়ার বন্ধন (১৯৯৭)
দহন (১৯৯৭)
বাবা কেন চাকর (১৯৯৮)
পুত্র বধূ (১৯৯৮)
প্রাণের চেয়ে প্রিয় (১৯৯৮)
চৌধুরী পরিবার (১৯৯৮)
বাড়িওয়ালি (২০০০)
মধুর মিলন (২০০০)
মায়ের আঁচল (২০০৩)
আলো (২০০৩)
সবুজ সাথী (২০০৩)
কুলি (২০০৪)
অগ্নী (২০০৪)
দাদার আদেশ (২০০৫)
চাওয়া পাওয়া (২০০৯)
নীলাচলে কিরীটি (২০১৮)

SHARE THIS

Author:

Previous Post
Next Post